ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সই করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এসময়ে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সাজেক এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের উদ্ধারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনকে আরও সতর্ক করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাঙামাটি ও পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, সাজেকের পথটি অত্যন্ত দুর্গম এবং বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন এমন পর্যটকদের প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত ভ্রমণ স্থগিত রাখতে বলেছে। তারা যেন কোনোভাবেই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ না করেন, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে। তবে তারা জননিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনা করে সাজেক খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকরা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাজেক খোলার আপডেট জানতে পারবেন। বর্তমানে রাঙামাটি জেলায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সাজেক যাওয়ার প্রধান সড়কও কিছুস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতাই সর্বোত্তম পন্থা। তাই পর্যটকদেরও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার উন্নতি হলে সাজেক আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নেবে না বলে জানিয়েছে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার কাজ করলেও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image
বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী সই করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস, পাহাড়ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এসময়ে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যারা ইতোমধ্যে সাজেক এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের উদ্ধারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তবে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনকে আরও সতর্ক করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাঙামাটি ও পার্বত্য এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেছেন, সাজেকের পথটি অত্যন্ত দুর্গম এবং বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন এমন পর্যটকদের প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত ভ্রমণ স্থগিত রাখতে বলেছে। তারা যেন কোনোভাবেই নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ না করেন, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে। তবে তারা জননিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনা করে সাজেক খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যটকরা প্রশাসনের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাজেক খোলার আপডেট জানতে পারবেন। বর্তমানে রাঙামাটি জেলায় ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সাজেক যাওয়ার প্রধান সড়কও কিছুস্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতাই সর্বোত্তম পন্থা। তাই পর্যটকদেরও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। আগামী কয়েকদিন আবহাওয়ার উন্নতি হলে সাজেক আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নেবে না বলে জানিয়েছে। পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার কাজ করলেও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা